সরাসরি প্রধান সামগ্রীতে চলে যান

পৃথিবীর সবচেয়ে দামি পদার্থের নাম কী এবং এটি কি কাজে ব্যবহৃত হয় ?

Periodic Tableএর শেষে যে পদার্থগুলো দেখতে পাওয়া যায়, তা সবগুলই দামি। এর কারণ হলো, ওই পদার্থগুলো মনুষ্য-তৈরি বা man-made। আবার ওগুলো তৈরি করতে যে পরিমান শ্রম, সময়, অর্থ ব্যয় করতে হয় সেই তুলনাই তারা অত্যন্ত ক্ষণস্থায়ী। এরা এতটাই ক্ষণস্থায়ী যে, রসায়নবিদরাই এদের উপর ভালো ভাবে পরিক্ষা নিরীক্ষা চালাতে পারে না।

যা হোক। ওগুলো বাদ দিয়ে যদি বলেন যে প্রাকৃতিকভাবে পাওয়া যায় এমন উপাদানগুলোর মাঝে সবচেয়ে দামি কোনটা, তাহলে নিঃসন্দেহে সেটা হবে ফ্রান্সিয়াম(Francium)। Periodic Table এর Group 1, Period 7 এর 87 Atomic Number বিশিষ্ট মৌলটি হলো ফ্রান্সিয়াম। প্রাকৃতিক ভাবে পাওয়া গেলেও এর স্থায়িত্ব এত কম যে এদের দাম গ্রামপ্রতি ১০০ কোটি মার্কিন ডলার নির্ধারণ করতেও কার্পণ্য করেনি বিজ্ঞানিরা। এটি তেজষ্ক্রিয়এবং এর অর্ধায়ুকাল কেবল ২২ মিনিট। এটি এতটাই ক্ষণস্থায়ী যে এটিকে কখনোই ১ গ্রাম পাওয়া যায়নি। এমনকি এটি কে তৈরি করেও না।

ফ্রান্সিয়াম এত ক্ষণস্থায়ী হওয়ার দরুন ফ্রান্সিয়ামকে কোন কাজে লাগানো হয় না।

এখন যদি বলেন, ভাই, এমন কোন পদার্থ এর নাম বলুন যা ক্ষণস্থায়ী নয়, যা আপনি আমি সবাই দেখতে পারব, তাহলে সে ক্ষেত্রে যে পদার্থের নাম বলব তা হচ্ছে স্ক্যান্ডিয়াম ( Scandium)। কী? শুনে অবাক হচ্ছেন কী? নাম কি চেনা চেনা লাগে? না চিনলেও সমস্যা নেই। আমি পরিচয় করিয়ে দিচ্ছি। এটি একটি ক্ষারক পদার্থ, Group 3, Period 4, Atomic Number 21। পর্যায়সারণী তে এর অবস্থান ঠিক ক্যালসিয়ামের পরে। গ্রামপ্রতি এর দাম পরবে মাত্র ২৭০ মার্কিন ডলার। এত দামের কারণ এর ব্যবহার। স্ক্যান্ডিয়াম ব্যবহার করা হয় alloy তৈরিতে। এই alloy যেনতেন নয়। রকেট, নভোযানে এগুলো ব্যবহার করতে হয়। স্ক্যান্ডিয়াম মটেও দুর্লভ নয়। তবে এর ব্যবহার এত মুল্যবান কাজে এত বেশি ব্যবহার হয় যে এর দাম আকাশচুম্বী। ফলতঃ সাধারণ জনগন তা কিনতে পারে না।


অনেককে এই প্রশ্নের উত্তরে anti matter নিয়ে বাড়াবাড়ি উত্তর দিতে দেখালাম। হ্যাঁ। এটা সত্য যে anti hydrogen এর দাম অনেক বেশি। তবে প্রশ্নের কথা আর উদ্দেশ্য anti hydrogen বা anti matter দ্বারা পূরণ হয় না। কারণ ওগুলো কোন পদার্থ নয়। নামেই আছে anti, অর্থাৎ এটি অপদার্থ।

অনেকে আবার লুটেসিয়ামকে সবচেয়ে দামি বলে দাবি করছে। এটা অবশ্য তাদের দোষ না। বিভিন্ন ওয়েবসাইটে একই কথা লেখা। তবে একটু ঘেঁটে দেখলে জানতে পারবেন, লুটেসিয়াম(Lutetium) এর দাম কেবল গ্রামপ্রতি ১০০ মার্কিন ডলার বা তারও কম।[1] অতএব লুটেসিয়াম মটেও সবচেয়ে দামি পদার্থ না।




মন্তব্যসমূহ

এই ব্লগটি থেকে জনপ্রিয় পোস্টগুলি

পরিবেশগত মনোবিজ্ঞান কী এবং এটি কীভাবে আমাদের প্রভাবিত করে?

  পরিবেশগত মনোবিজ্ঞান (Environmental Psychology) হলো মনোবিজ্ঞানের একটি শাখা, যা অধ্যয়ন করে আমাদের চারপাশের পরিবেশ—প্রকৃতি, শহর, বাড়ি—কীভাবে আমাদের চিন্তা, আবেগ এবং আচরণের ওপর প্রভাব ফেলে। এটা মানুষ এবং পরিবেশের মধ্যে সম্পর্ক বোঝার চেষ্টা করে। পরিবেশগত মনোবিজ্ঞানের মূল বিষয়: ১. প্রাকৃতিক পরিবেশ : প্রকৃতি আমাদের মন শান্ত করে। উদাহরণ: গাছপালার মধ্যে হাঁটলে চাপ কমে। ২. মানব-নির্মিত পরিবেশ : শহর, অফিস, বাড়ির গঠন আমাদের মেজাজ বদলায়। উদাহরণ: ভিড়ের জায়গায় উদ্বেগ বাড়তে পারে। ৩. স্থানের প্রভাব : কোনো জায়গা আমাদের কীভাবে অনুভব করায়। উদাহরণ: উজ্জ্বল রঙের ঘরে আনন্দ বেশি হয়। গুরুত্বপূর্ণ ধারণা: বায়োফিলিয়া (Biophilia) : মানুষের প্রকৃতির প্রতি স্বাভাবিক আকর্ষণ। গবেষণা বলে, প্রকৃতির কাছে থাকলে আমরা সুস্থ থাকি। জনসংখ্যার ঘনত্ব (Crowding) : বেশি ভিড়ে মানসিক চাপ বাড়ে। পরিবেশগত চাপ (Environmental Stress) : শব্দ, দূষণ আমাদের অসুস্থ করতে পারে। একটি উদাহরণ: ধরুন, আপনি শহরে থাকেন যেখানে সবসময় শব্দ আর ভিড়। আপনার মন অশান্ত থাকে। কিন্তু একদিন গ্রামে গিয়ে নদীর ধারে বস...

সাংস্কৃতিক মনোবিজ্ঞান কী এবং এটি কীভাবে আমাদের গঠন করে?

  সাংস্কৃতিক মনোবিজ্ঞান (Cultural Psychology) হলো মনোবিজ্ঞানের একটি শাখা, যা অধ্যয়ন করে আমাদের সংস্কৃতি—অর্থাৎ বিশ্বাস, রীতিনীতি, এবং সমাজের নিয়ম—কীভাবে আমাদের চিন্তা, আবেগ এবং আচরণ গঠন করে। এটা বলে যে মানুষের মন শুধু জৈবিক নয়, সংস্কৃতির দ্বারাও তৈরি হয়। সাংস্কৃতিক মনোবিজ্ঞানের মূল বিষয়: ১. সংস্কৃতির প্রভাব : আমরা যে সমাজে বড় হই, সেটা আমাদের চিন্তার ধরন বদলায়। উদাহরণ: পশ্চিমে ব্যক্তিস্বাধীনতা বেশি জোর দেওয়া হয়, পূর্বে পরিবারের ওপর। ২. স্বতন্ত্র বনাম সমষ্টিবাদ (Individualism vs. Collectivism) : স্বতন্ত্র সংস্কৃতি: নিজের লক্ষ্য বড় (যেমন, আমেরিকা)। সমষ্টিবাদী সংস্কৃতি: গোষ্ঠীর ভালো বড় (যেমন, ভারত)। ৩. মূল্যবোধ : সংস্কৃতি আমাদের কী ঠিক বা ভুল মনে করতে শেখায়। উদাহরণ: কোনো সমাজে বড়দের সম্মান বেশি গুরুত্ব পায়। গুরুত্বপূর্ণ ধারণা: সাংস্কৃতিক নিয়ম (Norms) : সমাজের অলিখিত নিয়ম আমাদের আচরণ গঠন করে। উদাহরণ: কোথাও জুতো খুলে ঘরে ঢোকা প্রথা। ভাষা : আমরা যে ভাষায় কথা বলি, সেটা আমাদের চিন্তার ধরন বদলায়। উদাহরণ: কিছু ভাষায় সময়কে সামনে-পিছনে দেখা হয়, কিছুত...

Behaviorism কী এবং এটি কীভাবে কাজ করে?

  আচরণবাদ (Behaviorism) হলো মনোবিজ্ঞানের একটি তত্ত্ব, যা বলে যে মানুষের আচরণ শেখা যায় পরিবেশ থেকে, এবং আমরা যা করি তা আমাদের অভিজ্ঞতার ফল। এই তত্ত্ব মনের ভেতরের চিন্তা বা আবেগের ওপর কম জোর দেয়, বরং দৃশ্যমান আচরণের ওপর ফোকাস করে। আচরণবাদের মূল ধারণা: ১. শর্তযুক্ত প্রতিক্রিয়া (Conditioning) : আমরা পরিবেশ থেকে প্রতিক্রিয়া শিখি। দুই প্রকার: ক্লাসিক্যাল এবং অপারেন্ট। ২. পুরস্কার ও শাস্তি : ভালো কাজের জন্য পুরস্কার পেলে সেটা আবার করি, খারাপের জন্য শাস্তি পেলে থামি। ক্লাসিক্যাল কন্ডিশনিং: বিখ্যাত মনোবিজ্ঞানী ইভান প্যাভলভ এটা নিয়ে গবেষণা করেছিলেন। তিনি কুকুরের ওপর পরীক্ষা করে দেখান: কুকুর খাবার দেখলে লালা ঝরত (স্বাভাবিক প্রতিক্রিয়া)। তিনি খাবারের সাথে একটা ঘণ্টা বাজাতেন। কিছুদিন পর শুধু ঘণ্টা শুনলেই কুকুরের লালা ঝরত। এটা দেখায়, আমরা নতুন উদ্দীপনার সাথে প্রতিক্রিয়া যুক্ত করতে শিখি। অপারেন্ট কন্ডিশনিং: বি. এফ. স্কিনার এটা নিয়ে কাজ করেছেন। তিনি বলেন: পুরস্কার পেলে আচরণ বাড়ে (Positive Reinforcement)। উদাহরণ: শিশু ভালো নম্বর পেলে মিষ্টি পায়, তাই পড়তে উৎসাহ পায়...