সরাসরি প্রধান সামগ্রীতে চলে যান

ভারতে কি ভবিষ্যতে মুসলিমরা সংখ্যাগরিষ্ঠ হওয়ার সম্ভাবনা আছে?

 


২০৫০ সালের মধ্যে বিশ্বের সবচেয়ে বেশি মুসলিম অধ্যুষিত দেশে পরিণত হবে ভারত। মার্কিন গবেষণা সংস্থা পিউ রিসার্চ সেন্টারের এক প্রতিবেদনে এ তথ্য উঠে এসেছে। পিউ রিসার্চের প্রকাশিত ওই প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, বর্তমানে খ্রিষ্টান ধর্মের পর ইসলাম বিশ্বের দ্বিতীয় বৃহত্তম ধর্ম। এ মুহূর্তে বিশ্বের সবচেয়ে দ্রুত বর্ধনশীল প্রধান ধর্মও ইসলাম এবং বর্তমানের এই জনসংখ্যা বৃদ্ধির ধারা অব্যাহত থাকে তাহলে চলতি শতাব্দীর শেষের দিকে খ্রিষ্টান ধর্মকে ছাড়িয়ে যাবে ইসলাম।


পিউ রিসার্চ বলছে, ২০১০ সালে বিশ্বে মুসলিম জনগোষ্ঠীর পরিমাণ ছিল ১৬০ কোটি; যা বিশ্বের মোট জনসংখ্যার ২৩ শতাংশ। বর্তমানে বিশ্বের সবচেয়ে বড় মুসলিম দেশ ইন্দোনেশিয়া।


এর আগে ২০১৫ সালে পিউ রিসার্চের এক প্রতিবেদনে বলা হয়, আগামী দশকে বিশ্বে জনসংখ্যা ৩৫ শতাংশ বৃদ্ধি পাবে বলে ধারণা করা হলেও মুসলিম জনসংখ্যা বাড়বে ৭৩ শতাংশ। এর ফলে বিশ্বে মুসলিম জনগোষ্ঠীর সংখ্যা ২৮০ কোটিতে পৌঁছাতে পারে বলে প্রত্যাশা করা হয়।


গত বছরের অক্টোবরে মার্কিন এই গবেষণা প্রতিষ্ঠান জানায়, ২০৫০ সালের মধ্যে বিশ্বের জনসংখ্যা বৃদ্ধির হারের চেয়ে মুসলিমদের সংখ্যা দ্বিগুণ হারে বাড়বে। এই গবেষণা প্রতিবেদনে ২০১০ থেকে ২০৫০ সালের মধ্যে বৌদ্ধ, খ্রিষ্টান, হিন্দু, ইহুদি, মুসলমান, লোক ধর্ম ও অন্য ধর্মের আকার ও পরিবর্তনের চিত্র তুলে ধরা হয়।


গবেষণায় অনেক মানুষকে ধর্মের ভবিষ্যৎ সম্পর্কে ভবিষ্যদ্বাণী করতে বলা হয়েছিল। এই প্রথম বিশ্বের বিভিন্ন গোষ্ঠীর অনেক মানুষের আনুষ্ঠানিক বয়স, জন্ম-মৃত্যুহার, মাইগ্রেশন এবং ধর্ম পরিবর্তনের তথ্য ব্যবহার করে গবেষণা করা হয়। বিশ্বের প্রসারমান ধর্ম হতে ইসলামকে সহায়তা করছে মুসলিমদের জন্মহার। মার্কিন এই গবেষণা প্রতিষ্ঠান ২০১০ সালের এক গবেষণায় জানায়, বিশ্বের ৩৪ শতাংশ মুসলিমের বয়স ১৫ বছরের নিচে, অপরদিকে ৩০ শতাংশ হিন্দু ও ২৭ শতাংশ খ্রিষ্টানের বয়স ১৫ বছরের নিচে।


তবে ভারত মুসলিম সংখ্যাগরিষ্ঠ দেশ হবে মানে এই নয় যে ভারতের মোট জনসংখ্যার হিসাবে মুসলমানরা সংখ্যাগরিষ্ঠ হবে বরং একক দেশ হিসেবে ভারতে সবচেয়ে বেশি মুসলিম থাকবে।

মন্তব্যসমূহ

এই ব্লগটি থেকে জনপ্রিয় পোস্টগুলি

পরিবেশগত মনোবিজ্ঞান কী এবং এটি কীভাবে আমাদের প্রভাবিত করে?

  পরিবেশগত মনোবিজ্ঞান (Environmental Psychology) হলো মনোবিজ্ঞানের একটি শাখা, যা অধ্যয়ন করে আমাদের চারপাশের পরিবেশ—প্রকৃতি, শহর, বাড়ি—কীভাবে আমাদের চিন্তা, আবেগ এবং আচরণের ওপর প্রভাব ফেলে। এটা মানুষ এবং পরিবেশের মধ্যে সম্পর্ক বোঝার চেষ্টা করে। পরিবেশগত মনোবিজ্ঞানের মূল বিষয়: ১. প্রাকৃতিক পরিবেশ : প্রকৃতি আমাদের মন শান্ত করে। উদাহরণ: গাছপালার মধ্যে হাঁটলে চাপ কমে। ২. মানব-নির্মিত পরিবেশ : শহর, অফিস, বাড়ির গঠন আমাদের মেজাজ বদলায়। উদাহরণ: ভিড়ের জায়গায় উদ্বেগ বাড়তে পারে। ৩. স্থানের প্রভাব : কোনো জায়গা আমাদের কীভাবে অনুভব করায়। উদাহরণ: উজ্জ্বল রঙের ঘরে আনন্দ বেশি হয়। গুরুত্বপূর্ণ ধারণা: বায়োফিলিয়া (Biophilia) : মানুষের প্রকৃতির প্রতি স্বাভাবিক আকর্ষণ। গবেষণা বলে, প্রকৃতির কাছে থাকলে আমরা সুস্থ থাকি। জনসংখ্যার ঘনত্ব (Crowding) : বেশি ভিড়ে মানসিক চাপ বাড়ে। পরিবেশগত চাপ (Environmental Stress) : শব্দ, দূষণ আমাদের অসুস্থ করতে পারে। একটি উদাহরণ: ধরুন, আপনি শহরে থাকেন যেখানে সবসময় শব্দ আর ভিড়। আপনার মন অশান্ত থাকে। কিন্তু একদিন গ্রামে গিয়ে নদীর ধারে বস...

সাংস্কৃতিক মনোবিজ্ঞান কী এবং এটি কীভাবে আমাদের গঠন করে?

  সাংস্কৃতিক মনোবিজ্ঞান (Cultural Psychology) হলো মনোবিজ্ঞানের একটি শাখা, যা অধ্যয়ন করে আমাদের সংস্কৃতি—অর্থাৎ বিশ্বাস, রীতিনীতি, এবং সমাজের নিয়ম—কীভাবে আমাদের চিন্তা, আবেগ এবং আচরণ গঠন করে। এটা বলে যে মানুষের মন শুধু জৈবিক নয়, সংস্কৃতির দ্বারাও তৈরি হয়। সাংস্কৃতিক মনোবিজ্ঞানের মূল বিষয়: ১. সংস্কৃতির প্রভাব : আমরা যে সমাজে বড় হই, সেটা আমাদের চিন্তার ধরন বদলায়। উদাহরণ: পশ্চিমে ব্যক্তিস্বাধীনতা বেশি জোর দেওয়া হয়, পূর্বে পরিবারের ওপর। ২. স্বতন্ত্র বনাম সমষ্টিবাদ (Individualism vs. Collectivism) : স্বতন্ত্র সংস্কৃতি: নিজের লক্ষ্য বড় (যেমন, আমেরিকা)। সমষ্টিবাদী সংস্কৃতি: গোষ্ঠীর ভালো বড় (যেমন, ভারত)। ৩. মূল্যবোধ : সংস্কৃতি আমাদের কী ঠিক বা ভুল মনে করতে শেখায়। উদাহরণ: কোনো সমাজে বড়দের সম্মান বেশি গুরুত্ব পায়। গুরুত্বপূর্ণ ধারণা: সাংস্কৃতিক নিয়ম (Norms) : সমাজের অলিখিত নিয়ম আমাদের আচরণ গঠন করে। উদাহরণ: কোথাও জুতো খুলে ঘরে ঢোকা প্রথা। ভাষা : আমরা যে ভাষায় কথা বলি, সেটা আমাদের চিন্তার ধরন বদলায়। উদাহরণ: কিছু ভাষায় সময়কে সামনে-পিছনে দেখা হয়, কিছুত...

Behaviorism কী এবং এটি কীভাবে কাজ করে?

  আচরণবাদ (Behaviorism) হলো মনোবিজ্ঞানের একটি তত্ত্ব, যা বলে যে মানুষের আচরণ শেখা যায় পরিবেশ থেকে, এবং আমরা যা করি তা আমাদের অভিজ্ঞতার ফল। এই তত্ত্ব মনের ভেতরের চিন্তা বা আবেগের ওপর কম জোর দেয়, বরং দৃশ্যমান আচরণের ওপর ফোকাস করে। আচরণবাদের মূল ধারণা: ১. শর্তযুক্ত প্রতিক্রিয়া (Conditioning) : আমরা পরিবেশ থেকে প্রতিক্রিয়া শিখি। দুই প্রকার: ক্লাসিক্যাল এবং অপারেন্ট। ২. পুরস্কার ও শাস্তি : ভালো কাজের জন্য পুরস্কার পেলে সেটা আবার করি, খারাপের জন্য শাস্তি পেলে থামি। ক্লাসিক্যাল কন্ডিশনিং: বিখ্যাত মনোবিজ্ঞানী ইভান প্যাভলভ এটা নিয়ে গবেষণা করেছিলেন। তিনি কুকুরের ওপর পরীক্ষা করে দেখান: কুকুর খাবার দেখলে লালা ঝরত (স্বাভাবিক প্রতিক্রিয়া)। তিনি খাবারের সাথে একটা ঘণ্টা বাজাতেন। কিছুদিন পর শুধু ঘণ্টা শুনলেই কুকুরের লালা ঝরত। এটা দেখায়, আমরা নতুন উদ্দীপনার সাথে প্রতিক্রিয়া যুক্ত করতে শিখি। অপারেন্ট কন্ডিশনিং: বি. এফ. স্কিনার এটা নিয়ে কাজ করেছেন। তিনি বলেন: পুরস্কার পেলে আচরণ বাড়ে (Positive Reinforcement)। উদাহরণ: শিশু ভালো নম্বর পেলে মিষ্টি পায়, তাই পড়তে উৎসাহ পায়...