সরাসরি প্রধান সামগ্রীতে চলে যান

ভারতের কিছু রহস্যময় ঘটনা জানেন কি?

 ভারতের কিছু রহস্যময় ঘটনা জানেন কি?


ভারতের কিছু রহস্যময় ঘটনা -

১. কুলধারার অভিশাপ–



জয়সলমীর থেকে মাত্র ১৫ কিমি দূরে কূলধারা একটি অভিশপ্ত গ্রাম মনে করা হয়। এখানে প্রায় ১২৯১ জন লোক বসবাস করত এবং প্রায় ৮৪ টি গ্রামের সমন্বয় ছিল। কিন্তু সমস্ত জনবসতি মাত্র একটি রাতের মধ্যে এই জায়গা পরিত্যাগ করে, কারণ কোন শয়তানী শক্তি তাদের এই জায়গা পরিত্যাগ করতে বলেছিল বলা হয়। যারা থেকে গেছিল, তাদের ভয়ঙ্কর ভাবে মৃত্যু হয়েছিল।



২. লালবাহাদুর শাস্ত্রীর অদ্ভুত ও আকস্মিক মৃত্যু —





বিভিন্ন রিপোর্ট ও লোকজন এখনো জানেন কার্ডিয়াক অ্যাটাকের ফলে লালবাহাদুর শাস্ত্রীর মৃত্যু হয়। আগেও তাঁর তিনবার কার্ডিয়াক অ্যাটাক হয়েছিল। তাঁর স্ত্রী বলেছিলেন লালবাহাদুর শাস্ত্রীর কখনোই হার্টের প্রবলেম তখন ছিল না এবং তিনি মারা যাবার পরে শাস্ত্রীজির শরীরে প্রচুর নীল দাগ দেখা যায় যা তীব্র বিষক্রিয়ার প্রমাণ।


৩. ইন্দাস ভ্যালির আকস্মিক পতনের কারণ–





ইন্দাস ভ্যালি তার সময়ের অত্যন্ত আধুনিক ও উন্নত একটি সভ্যতা ছিল। আর সেই সময়ের সকল আবিষ্কার এতটাই আধুনিক ছিল যে পৃথিবীর অন্যান্য সভ্যতার থেকে এই সভ্যতা বহুলাংশে উন্নত ছিল। কেন এই সভ্যতা হঠাৎ ধ্বংস হল বলা যায় না। কেউ বলে এই সভ্যতার পতনের মূলে ছিল আর্যদের আক্রমণ। কিন্ত তার সঠিকতা নিয়ে প্রশ্ন রয়েই গেছে এবং কেউ জানে না, কেন এই সভ্যতা হঠাৎ কালের অন্ধকারে তলিয়ে গেল।

৪. সুভাষ চন্দ্র বোস এর উধাও রহস্য–




সবাই জানে তাইওয়ানের উদ্দেশ্যে রওনা হয়ে সুভাষ চন্দ্র বোস প্লেন ক্র্যাশ হয়ে ১৯৪৫ সালে মারা যান। এর পরের ঘটনাটি কোন খবরের কাগজ স্বীকার করেনি বা এটা কোন সত্যি ঘটনা, তারও প্রমাণ নেই। একজন ব্যক্তি যিনি অযোধ্যার ফৈজাদে থাকতেন, নিজেকে সুভাষ চন্দ্রর বোস বলে দাবী করেন এবং তাঁর কাছে সুভাষ বোসয়ের পরিবার ও তাঁর সম্পর্কিত বহু বিষয়ের সূক্ষ্মতম বর্ণনা ছিল।


৫. সিকিমের ভৌতিক সৈনিক–


পূর্ব সিকিমে এক ভারতীয় সৈনিক নাথুলা পাসের কাছে মারা যান যার নাম বাবা হরভজন সিং। সৈনিকদের মতে যখন নাথুলা পাসের অধিক উচ্চতায় সৈনিকরা তার নাম ধরে ডাকে, তখন আর্মির লোকেদের বাঁচানোর জন্য এই মৃত সৈনিক আবির্ভূত হন। এখানে এরকম প্রচুর ঘটনা ঘটেছিল যার জন্য হরভজন সিং লোকমুখে বিখ্যাত হয়ে গেছেন। সৈনিকরা এখানে এই মৃত সৈনিকের স্মৃতিতে সৌধ অবধি নির্মাণ করেছে।

৬. তাজমহল নাকি তেজোমহালয়া ? —


একটি বইতে লেখক পি. কে. ওক লিখেছেন কিভাবে মুঘল সম্রাট শাহজাহান জয়পুরের রাজার থেকে বলপ্রয়োগ করে তেজোমহালয়া গ্রহণ করেন এবং তারপর সেটির নতুন নামকরণ করেন তাজমহল। লেখক বেশ কিছু তথ্য তাঁর বক্তব্যর সমর্থনে পেশ করেন। যে সকল কারিগর ও শ্রমিক এই তাজমহল তৈরী করেছিল, তাদের মৃত্যুর ঘটনা সত্যি প্রমাণিত হয়েছিল।

৭. হিমালয়ের ইয়েতি–


সমস্ত পৃথিবীতে দুই ধরণের লোক আছে, যাদের মধ্যে একদল বিশ্বাস করে ইয়েতি আছে, আরেকদল ইয়েতির অস্তিত্ব মানতে চায় না। যাই হোক, হিমালয়ের কোলে ভারত, নেপাল ও ভুটানে ইয়েতি আছে বলে মনে করা হয়। কেউ কেউ বলেন এটা অত্যন্ত হিংস্র প্রাণী, আবার কেউ কেউ বলেন এটি মানুষকে বিভিন্ন ভাবে সাহায্যকারী একটি পরোপকারী প্রাণী। এটি এখনো রহস্যপূর্ণ এবং ইয়েতির খোঁজ এখনো চলছে।

৮. প্রহ্লাদ জানির বেঁচে থাকার রহস্য —


মাতা অম্বার একজন বিরাট বড় ভক্ত এই প্রহ্লাদ জানি একজন ভারতীয় সাধক। দাবী করা হয়, বিগত ৭০ বছর তিনি কিছু না খেয়ে বেঁচে আছেন। এর সত্যতা যাচাই করার জন্য তাঁর ওপরে পনেরো দিন নজরদারি করা হয়। সবাইকে অত্যন্ত অবাক করে দিয়ে তিনি পনেরো দিন কিছুই না খেয়ে বা জলপান না করে দিব্যি বেঁচে থাকেন। তাঁর শরীরে খাদ্যাভাব জনিত কোন অসুবিধা দেখা যায়নি। কোন বৈজ্ঞানিকও তাঁর এই অদ্ভুত ক্ষমতার কোন হদিস করতে পারেন নি।

৯. সম্রাট অশোকের গুপ্ত সংঘ–



এরকম বলা হয় যে সম্রাট অশোকের একটি গুপ্ত সংঘ ছিল যাতে নয়জন অত্যন্ত বিশ্বস্ত ও উচৃচ জ্ঞানবান ব্যক্তি ছিল। তাদের কাছে মনুষ্য সমাজের ক্ষতিকারক গোপন তথ্য রক্ষিত ছিল। তাঁদের প্রত্যেকের গুপ্তবিদ্যা ছিল যা তাঁরা এক একটি বইয়ের মধ্যে লুকিয়ে রেখেছিলেন। এই সকল বইগুলি অত্যন্ত গোপনীয়তার সাথে লুকিয়ে রাখা হয়েছিল। মনে করা হয়, এই বইগুলি পরবর্তী কালে হাতবদল হয়েছিল কিন্তু কার কাছে এবং কোথায় বা কিভাবে তা এখনো রহস্যই থেকে গেছে।

১০. যোধপুরের রহস্যময় সোনিক বুম–


সোনিক বুম তখনই তৈরী হয় যখন কোনকিছু তীব্র শব্দ করে দ্রুতবেগে একজায়গা থেকে আরেক জায়গায় ধাবিত হয়। এই কারণেই কোন এরোপ্লেন কোন জনবসতিপূর্ণ এলাকার মধ্যে দিয়ে যাতায়াত করতে পারে না। ২০১২ সালের ১৮ ই ডিসেম্বর, একটি সোনিক বুম যোধপুরের ওপর তীব্রভাবে ধাবিত হয়। কেউ এখনো অবধি এর কারণ খুঁজে পায়নি কারণ, ন্যাশনাল আর্মি বা অন্য কেউই ওই সময় যোধপুরে কোনরকম কিছু পারফর্ম করার কথা স্বীকার করেনি যাতে ওইরকম তীব্র আওয়াজ ও গতিসম্পর্ক সোনিক বুম সৃষ্টি হতে পারে।



মন্তব্যসমূহ

এই ব্লগটি থেকে জনপ্রিয় পোস্টগুলি

পরিবেশগত মনোবিজ্ঞান কী এবং এটি কীভাবে আমাদের প্রভাবিত করে?

  পরিবেশগত মনোবিজ্ঞান (Environmental Psychology) হলো মনোবিজ্ঞানের একটি শাখা, যা অধ্যয়ন করে আমাদের চারপাশের পরিবেশ—প্রকৃতি, শহর, বাড়ি—কীভাবে আমাদের চিন্তা, আবেগ এবং আচরণের ওপর প্রভাব ফেলে। এটা মানুষ এবং পরিবেশের মধ্যে সম্পর্ক বোঝার চেষ্টা করে। পরিবেশগত মনোবিজ্ঞানের মূল বিষয়: ১. প্রাকৃতিক পরিবেশ : প্রকৃতি আমাদের মন শান্ত করে। উদাহরণ: গাছপালার মধ্যে হাঁটলে চাপ কমে। ২. মানব-নির্মিত পরিবেশ : শহর, অফিস, বাড়ির গঠন আমাদের মেজাজ বদলায়। উদাহরণ: ভিড়ের জায়গায় উদ্বেগ বাড়তে পারে। ৩. স্থানের প্রভাব : কোনো জায়গা আমাদের কীভাবে অনুভব করায়। উদাহরণ: উজ্জ্বল রঙের ঘরে আনন্দ বেশি হয়। গুরুত্বপূর্ণ ধারণা: বায়োফিলিয়া (Biophilia) : মানুষের প্রকৃতির প্রতি স্বাভাবিক আকর্ষণ। গবেষণা বলে, প্রকৃতির কাছে থাকলে আমরা সুস্থ থাকি। জনসংখ্যার ঘনত্ব (Crowding) : বেশি ভিড়ে মানসিক চাপ বাড়ে। পরিবেশগত চাপ (Environmental Stress) : শব্দ, দূষণ আমাদের অসুস্থ করতে পারে। একটি উদাহরণ: ধরুন, আপনি শহরে থাকেন যেখানে সবসময় শব্দ আর ভিড়। আপনার মন অশান্ত থাকে। কিন্তু একদিন গ্রামে গিয়ে নদীর ধারে বস...

সাংস্কৃতিক মনোবিজ্ঞান কী এবং এটি কীভাবে আমাদের গঠন করে?

  সাংস্কৃতিক মনোবিজ্ঞান (Cultural Psychology) হলো মনোবিজ্ঞানের একটি শাখা, যা অধ্যয়ন করে আমাদের সংস্কৃতি—অর্থাৎ বিশ্বাস, রীতিনীতি, এবং সমাজের নিয়ম—কীভাবে আমাদের চিন্তা, আবেগ এবং আচরণ গঠন করে। এটা বলে যে মানুষের মন শুধু জৈবিক নয়, সংস্কৃতির দ্বারাও তৈরি হয়। সাংস্কৃতিক মনোবিজ্ঞানের মূল বিষয়: ১. সংস্কৃতির প্রভাব : আমরা যে সমাজে বড় হই, সেটা আমাদের চিন্তার ধরন বদলায়। উদাহরণ: পশ্চিমে ব্যক্তিস্বাধীনতা বেশি জোর দেওয়া হয়, পূর্বে পরিবারের ওপর। ২. স্বতন্ত্র বনাম সমষ্টিবাদ (Individualism vs. Collectivism) : স্বতন্ত্র সংস্কৃতি: নিজের লক্ষ্য বড় (যেমন, আমেরিকা)। সমষ্টিবাদী সংস্কৃতি: গোষ্ঠীর ভালো বড় (যেমন, ভারত)। ৩. মূল্যবোধ : সংস্কৃতি আমাদের কী ঠিক বা ভুল মনে করতে শেখায়। উদাহরণ: কোনো সমাজে বড়দের সম্মান বেশি গুরুত্ব পায়। গুরুত্বপূর্ণ ধারণা: সাংস্কৃতিক নিয়ম (Norms) : সমাজের অলিখিত নিয়ম আমাদের আচরণ গঠন করে। উদাহরণ: কোথাও জুতো খুলে ঘরে ঢোকা প্রথা। ভাষা : আমরা যে ভাষায় কথা বলি, সেটা আমাদের চিন্তার ধরন বদলায়। উদাহরণ: কিছু ভাষায় সময়কে সামনে-পিছনে দেখা হয়, কিছুত...

Behaviorism কী এবং এটি কীভাবে কাজ করে?

  আচরণবাদ (Behaviorism) হলো মনোবিজ্ঞানের একটি তত্ত্ব, যা বলে যে মানুষের আচরণ শেখা যায় পরিবেশ থেকে, এবং আমরা যা করি তা আমাদের অভিজ্ঞতার ফল। এই তত্ত্ব মনের ভেতরের চিন্তা বা আবেগের ওপর কম জোর দেয়, বরং দৃশ্যমান আচরণের ওপর ফোকাস করে। আচরণবাদের মূল ধারণা: ১. শর্তযুক্ত প্রতিক্রিয়া (Conditioning) : আমরা পরিবেশ থেকে প্রতিক্রিয়া শিখি। দুই প্রকার: ক্লাসিক্যাল এবং অপারেন্ট। ২. পুরস্কার ও শাস্তি : ভালো কাজের জন্য পুরস্কার পেলে সেটা আবার করি, খারাপের জন্য শাস্তি পেলে থামি। ক্লাসিক্যাল কন্ডিশনিং: বিখ্যাত মনোবিজ্ঞানী ইভান প্যাভলভ এটা নিয়ে গবেষণা করেছিলেন। তিনি কুকুরের ওপর পরীক্ষা করে দেখান: কুকুর খাবার দেখলে লালা ঝরত (স্বাভাবিক প্রতিক্রিয়া)। তিনি খাবারের সাথে একটা ঘণ্টা বাজাতেন। কিছুদিন পর শুধু ঘণ্টা শুনলেই কুকুরের লালা ঝরত। এটা দেখায়, আমরা নতুন উদ্দীপনার সাথে প্রতিক্রিয়া যুক্ত করতে শিখি। অপারেন্ট কন্ডিশনিং: বি. এফ. স্কিনার এটা নিয়ে কাজ করেছেন। তিনি বলেন: পুরস্কার পেলে আচরণ বাড়ে (Positive Reinforcement)। উদাহরণ: শিশু ভালো নম্বর পেলে মিষ্টি পায়, তাই পড়তে উৎসাহ পায়...